tirtherkak.com

Popular Bangla site

Story

টাইম স্টপার




তু-তুই বলতে চাচ্ছিস, তুই সময় আটকে ফেলার যন্ত্র আবিস্কার করেছিস? হুম।

কিন্তু এটা অসম্ভব। কীভাবে করলি? কীভাবে করেছি তুই বুঝবি না। তুই বিজ্ঞানের ‘বও জানিস না। কিন্তু সময় আটকে ফেলা মানে কী?

সেটাও তো বুজলাম না।মানে আবার যন্ত্রের লাল বোতামে যে চাপ দেবে। সে ছাড়া তার আশেপাশে সবকিছুর সময় আটকে যাবে। তার মানে যে বোতামটা চেপেছে তার কাছে মনে হবে সে এতক্ষন একটা ভিডিও দেখছিল এবং সে এখন ভিডিওটা pause করেছে।

এবং তখন সে সেই থেমে থাকা জগতের যেকোন কিছু পরিবর্তন করে দিতে পারবে এবং কেউ টেরও পাবে না? না, পাবে না। কিন্তু এটার যদি ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়?

এটার ব্যাটারি কখনো শেষ হবে না। এটা আশেপাশের পরিবেশ থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। কালকে আমি এই যন্ত্রটি পৃথিবীর সব বিজ্ঞানীদের সামনে উপস্থাপন করব।

শৈশব থেকে আমার বন্ধু বলতে গেলে শুধু তুই-ই।তাই তোকে যন্ত্রটা আগেভাগে দেখালাম। তোর যন্ত্রণা একটু ধরে দেখি? দেখতে চাইলে দেখ।

সময় আটকে ফেলার যন্ত্রের আবিষ্কারক ডক্টর আদনানের ল্যবরেটরিতে তার বাল্যবন্ধু কাশেম বসে আছে।একটু আগে সে ডক্টর আদনানেকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে। এখন সে ইচ্ছে করলে যা খুশি করতে পারে।কারণ তার কাছে আছে সময় আটকে ফেলার যন্ত্র।

আপাতত ডক্টর আদনানের মোবাইলে একটা সুইসাইড নোট লিখল সে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যর্থতার কারণে আত্মহত্যা খুবই বিশ্বাসযোগ্য একটি ঘটনা।

এরপর যন্ত্রটি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো সে, যন্ত্রণার জন্য সে তার প্রিয় বন্ধুকে হত্যা করেছে বলে হয়তো কিছুটা বিষাদ এসে ভর করেছে তার মনে। কিন্তু তার দৃঢ় বিশ্বাস সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যন্ত্রটি হাতে নিলে নিজেকে ঈশ্বরের মতো ক্ষমতাবান মনে হয় কি বিচিত্র অনুভূতি। ঘরে এসে যন্ত্রটাকে টেবিলের উপর রাখল কাশেম ঘড়িতে দেখল রাত অনেক হয়েছে। কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না বলে শুয়ে পড়ল।


কিন্তু উত্তেজনায় ঘুম আসছিল না তার আপাতত চিন্তা করতে লাগল সকালে উঠে সে কি করবে। ঠিক তখনি দেয়ালে একটি টিকটিকি দেখতে পেল কাশেম। টিকটিকিলে সে ভীষন পায় কাশেম।তাই তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে একটা বই ছুড়ে মারল টিকটিকির দিকে।

বইটা টিকটিকির গায়ে না লেগে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়তে লাগল টেবিলের উপর রাখা টেবিলের উপর রাখা সেই যন্ত্রটার সুইচের দিকে। কােম চেষ্টা করলো বইটি শুন্যে থাকা অবস্থায় ধরে ফেলতে কিন্তু পারলো না।

ধক করে উঠল তার বুক। সে জানে এখন কী হবে। বইটির কারনে যন্ত্রটির সুইচে চাপ পড়বে।আর সময় আটকে যাবে চিরকালের জন্য। যেহেতু কোন মানুষ সুইচটা চাপে নি,তাই সব মানুষের জন্য সময় আটকে যাবে চিরকালের জন্য। সময় শুধু চলতে থকবে সেই বিটির জন্য সেই বইটির জন্য হতবাগ্য একটি বই।

একজন ক্ষমতালোভী মানুষের নির্বুদ্ধিতার জন্য সম্পুর্ন ইউনিভার্সের সকল জীবিত ও জড় বস্তুর এত ভয়ংকর পরিনতি হবে,কে জানত?

1 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares