রিমির ছোঁয়া!

😍😍😂😂😂 রিমির ছোঁয়া🤡🤡😄😄🤗

আজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস শুরু করবে তিলক।(অষ্টম) ভয় নিয়েই সে ছুটে চলে স্কুলপানে। অপরিচিত ক্যাম্পাস, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক সবকিছুই অপরিচিত। কিন্তু এই অপরিচিতের মাঝেই তাকে তার অধিকার টুকু বুঝে নিতে হবে। মিশতে হবে সবার সাথে।


প্রথম থেকেই তিলক একটু লাজুক স্বভাবের ছিল। 😉😉তাই ছেলেদের সাথে মিশলে ও মেয়েদের সাথে তার সখ্যতা একেবারেই গড়ে উঠেনি।

এরই মধ্যে তিলক পড়ালেখায় মনোযোগ দিল। এবং প্রাইভেট পড়া শুরু করে দিল। তিলক গনিত প্রাইভেট পড়তো স্যারের বাসায় গিয়ে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সাথে। তো একদিন সে স্যারের বাসায় গেল পড়তে কিন্তু গিয়ে দেখে স্যার বাসায় নেই।

তো সে বাসার সামনে দাড়িয়ে ছিল একা। এমন সময় একটি মেয়ে আসলো স্যারের কাছে পড়তে। সে ও অগত্যা দাড়িয়ে থাকলো। কেউকারো সাথে বিন্দু মাত্রটি ও কথা বলছেনা। কারন তিলক তো এমনি তে ই লাজুক ছেলে।

এভাবে কিছুক্ষন যাবার পর সেই মেয়েটি তিলকের দিকে এগিয়ে আসলো এবং কথোপকথন করলোঃ
মেয়েঃ তোমার নাম কি?
ছেলেঃ তিলক, তোমার নাম কি?
মেয়েঃ রিমি। আচ্ছা আমি তোমাকে নাম ধরে ডাকবো?
ছেলেঃ অবশ্যই।

রিমিঃ আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
তিলকঃ কিন্তু আমি তো মেয়েদের সাথে কথা বলিনা।🤔

এমন সময় রিমি অট্রহাঁসি হেঁসে তিলককে বললো– আমি কি মেয়ে নই?😁😁

তিলক এত লজ্জা পেল যে অন্যদিকে তাকিয়ে হাঁসতে শুরু করলো। এভাবে খুনশুটি চলতে লাগলো তিলক এবং রিমির।

একসাথে কফিসপে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যাওয়া সবকিছু ই চলতে লাগল। স্যারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ক্লাসে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে থাকতো। যেন দুজন দুজনের হাজার বছরের পরিচিত।
😘😘
সখ্যতা যেন তাদের মাঝে বেড়েই চললো। এমন অবস্থা হলো য একজন স্কুলে না আসলে অন্যজন স্কুলে মন ই বসাতে পারতোনা।
আস্তে আস্তে তিলকের মনে জায়গা করে নিচ্ছে রিমি আবার রিমির মনে ও জায়গা করে নিচ্ছে তিলক।

এরই মধ্যে তিলক এবং রিমির সাথে পরিচয় হলো দশম শ্রেণির কিছু বড় ভাই এবং বোনের। যারা খুব মিশুক ছিল তিলক এবং রিমির সাথে। পড়ালেখা, খেলাধুলা, নাচ গান সবকিছুতেই তারা তিলক এবং রিমিকে সহযোগিতা করতো। 😁

একদিন তিলক স্কুলে আসেনি। তিলক না আসাতে রিমির মনটা আজ কেমন যেন অমাবস্যার চাঁদের মতো জ্বলসে হয়ে আছে।

কারো সাথে তেমন কথা বলেনা, পড়ালেখায় মন নেই। এভাবে কেটে গেল সারাটি দিন। রাতে পড়তে বসে ও কেমন যেন মনমরা হয়ে আছে রিমি। আর চিন্তা করতে লাগলো কেন আজ তিলক স্কুলে আসেনি?,

ওর কি কোনো সমস্যা হলো কিনা আরো কত চিন্তা আসতে লাগলো রিমির মাথায়। রাতে খাওয়াদাওয়া ও ঠিকমতো করেনি রিমি। রিমির আবার কবিতা ছড়া লেখার খুব শখ, এবং খুব ভালো লিখতে পারে রিমি, তাই একটু মনমরা থাকার পর ও এরই মাঝে তিলক কে উদ্দ্যেশ্য করে দু চারটি লাইন লিখে ফেললো রিমি একটা চিরকুটে।

পরদিন যথারীতি রিমি স্কুলে গেল এবং তিলক ও আজ স্কুলে আসলো। তিলক কে দেখেই রিমি তার দিকে দৌড়ে আসলো আর হা হুতাস করে বললোঃ

রিমিঃ তুমি কাল স্কুলে আসোনি কেন?
তিলকঃ একটু সমস্যা ছিল।
রিমিঃ কি সমস্যা? আমাকে বলবা না?
তিলকঃ তোমাকে কেন বলবো? তুমি কে হে আমার?

এ কথা শুনার পর রিমির মনটা খারাপ হয়ে গেল। আর যাওয়ার সময় বলে গেল—

রিমিঃ আমি তোমার কেউ নাহ, আর আমার সাথে কথা বলতে আসবেনা।

এ কথা বলেই রিমি সোজা ক্লাসের দিকে হাটতে শুরু করলো কান্নাভেজা চক্ষু নিয়ে। তিলক সবকিছু দেখলো এতক্ষন। তিলক ক্লাসে যাওয়ার পর দেখলো রিমি মন খারাপ করে বসে আছে।
তারপর যথারীতি স্যার আসলো ক্লাস ও শেষ হলো। টিফিনের সময়ে তিলক গেল রিমির সাথে কথা বলতে কিন্তু রিমি রাগ করে চলে গেল।

কোনো উপায়ন্তর না দেখে তিলক চিন্তা করল কিভাবে রিমির রাগ ভাঙ্গানো যায়। চিন্তা করে এটা ভাবল যদি একটি ফুল দিয়ে রিমিকে দুঃখিত বলা যায় তবে আশা করা যায় রিমির রাগ ভাঙবে। যেই ভাবা সেই কাজ। তিলক দৌড়ে চলে গেল ফুলের দোকানে নিয়ে আসলো কিছু ফুল। 😁😁

ফুল গুলো রিমির সামনে রেখে তিলক কান ধরে স্যরি বললো। আর রিমি ও সাথে সাথে হেঁসে ফুলগুলো আঁকড়ে ধরলো। হয়ত রিমি এটা ভেবেছিল এইতো মনে হয় তার ভালোবাসা শুরু হয়ে গেল।

রিমি তারপর বললোঃ

রিমিঃ তুমি কাল আসোনি কেন?
তিলকঃ হঠাৎ করে শরীর খারাপ করলো তাই আসিনি।

রিমি সাথে সাথে তিলকের মাথায় হাত দিয়ে বললো “জ্বর আসেনিতো?” না একটু ক্লান্ত লেগেছিল এই আর কি।

রিমিঃ আচ্ছা তোমার জন্য এই চিরকুট। বাসায় গিয়ে খুলে দেখবে। এ কথা বলে যথারীতি রিমি ক্লাসে চলে গেল। সেদিনের মতো সবাই ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে গেল।

তিলক সন্ধ্যায় পড়তে বসলো। হঠাৎ মনে পড়লো রিমির দেওয়া সেই চিরকুটের কথা। ব্যাগ থেকে সেই চিরকুট বের করে খুলে দেখলো তাতে লেখাঃ

“এক অনুরক্ত বিকেলে–
শান্ত বিভোর চোখে,
ঝিনুক এর আঁচড়ে,
রোদ্র ভেজা বালুতে– লিখেছিলাম তোমার নাম।
হঠাৎ তোমার নামের উপর ছুঁয়ে গেল ছোট্র শান্ত ঢেউ।
তখন ভাবলাম আজ আর তুমি আসবেনা।”

লেখাটা পড়ে তিলক হাঁসলো আবার অবাক ও হলো। রিমি কেন তাকে নিয়ে এত ভাবে? হয়তো বন্ধু ভেবে ভাবে। এসব কথা চিন্তা করে তিলক পড়ায় মনোযোগ দিল।

পরদিন সকালে তিলক ঘুম থেকে উঠল। নাস্তা সেরে স্কুলের দিকে রওনা হলো। পথিমধ্যে বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা হলো। সবাই দুষ্টোমি করতে করতে স্কুলে গিয়ে পৌঁছালো। রিমির সাথে ক্লাসের সামনে দেখাঃ

রিমিঃ তিলক, কেমন আছো?
তিলকঃ এই তো ভালো। তুমি কেমন আছো?
রিমিঃ ভালো। আচ্ছা শুনো আজ টিফিনে আমার সাথে নাস্তা করবে। আমি নিজ হাতে আজ তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছি।

টিফিন টাইমে তিলক নামাজ পড়ে ক্লাসে গেলে রিমি তিলকের দিকে এগিয়ে এসে টিফিন বক্স এগিয়ে দিল। তিলক বক্স খুলে দেখে ” পায়েস”। রিমিকে ধন্যবাদ দিয়ে খেতে শুরু করলো।

এভাবেই চলতে লাগলো তিলক এবং রিমির বন্ধুত্ব। এদিকে তিলকের মনে রিমির জন্য ভালোবাসা জাগ্রত হতে লাগলো। তিলক যে দিকে তাকায় মনে হয় রিমির ছায়া দেখতে পায়। তাই ভাবলো রিমিকে বলবে সে তার ভালোবাসার কথা। তখন দ্বিতীয় সাময়িকি পরীক্ষা চলছিল। একদিন পরীক্ষা শেষে তিলক রিমি কে বললোঃ

রিমিঃ রিমি তুমি কি সারা জীবনের জন্য আমার হতে পারবে?
“রিমির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল”

সে তিলক কে বললোঃ আমি তোমাকে বন্ধু ছাড়া তো কিছু ভাবতে পারছিনা।
এ কথা শুনে তিলক মন খারাপ করে স্কুলের পুকুরের পাড়ে গিয়ে বসে থাকলো মন খারাপ করে।

আর রিমির কথা মনে পড়তে থাকলো।

((পরবর্তীর জন্য অপেক্ষা করুন))

5 thoughts on “রিমির ছোঁয়া!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares