অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ উপায়।

ওজন কমানোর উপায়।


প্রিয় বন্ধুরা,
আজকে আপনাদের সাথে যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি খুব মজার একটি বিষয় এবং এটা আমাদের আকাঙ্খিত একটি বিষয়। আর সেটা হচ্ছে ওজন কিভাবে কমানো যায়! এবং কিভাবে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।

আমরা ছোট থেকে বড়, বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই দেখা যাচ্ছে, যে বিষয়টি নিয়ে সমস্যায় আছি সেটা হচ্ছে ওজন। ওজন কেন বাড়ছে, আপনাদের অনেকের আসলে মনে হতে পারে কেন এ সমস্যাটি আসলে এত বেশি! যারা সাধারন মানুষ আছেন তারা অনেকেই জানেন না যে কোন খাবারটি খেলে আসলে ওজন বেড়ে যাবে, কোন খাবারটি আপনার ওজন বাড়াতে সাহায্য করছে।

আপনাকে মনে রাখতে হবে যে প্রত্যেকটি মানুষের বয়স, উচ্চতা, এবং ওজন তার শারীরিক কাঠামোর উপর তার ক্যালরি নির্ধারন করছে। এখন আপনার বয়স যতটুকু সে অনুযায়ী আপনার উচ্চতা এবং ওজন যদি বেড়ে যায় তখনি আমরা এটাকে অভিসিটি বলি।

এ অভিসিটি টা আমরা নিজেরাই একটু সচেতন হলে জানতে পারি যে এটা কিভাবে আমাদের শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। একধরনের ক্যালকুলেটর আছে যা দিয়ে আপনি নিজেই বের করতে পারেন যে bmi টা কত। bmi যদি 18-25 এর মধ্যে আপনার রেন্জ থাকে তাহলে আপনি স্বাস্থ্যবান হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করতে পারেন, অথবা আপনি যদি ২৪-২৯ এর মধ্যে চলে যান তাহলে সেটাকে বলা হচ্ছে অতিরিক্ত ওজন, এবং 30 ছেড়ে চলে গেলে সেটাকে বলা হচ্ছে খুব বেশি ওজন।

যেহেতু আজকে আমরা ওজন কমানো নিয়ে আলোচনা করবো তাই আমরা এই বিষয়ের দিকে ফোকাস করবো। আপনি যে প্রতিদিন সকাল থেকে ভাত অথবা রুটি অথবা যে খাবার গুলো খাচ্ছেন সেগুলো অবশ্যই ভাগ ভাগ করা আছে।
একটা গ্রুপের খাবার হচ্ছে শর্করা জাতীয় খাবার যেটাকে আমরা বলি কার্বোহাইড্রেট, অনেকে কার্ভস নামে ও পরিচিত। আসলে কার্বোহাইড্রেট কেই কার্ভস বলা হয়। এই কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরে শক্তি যোগানোর জন্য এবং শক্তি জমিয়ে রাখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

এরপরে
প্রোটিনঃ প্রোটিন আমাদের নতুন কোষের উন্নতিসাধন, অথবা অন্যান্য যে হাড্ডি বা অন্যান্য যে কাজগুলো আছে তা সম্পূর্ণ করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমাদের মস্তিষ্কের যে ক্ষয়রোধ অথবা আমাদের যে কোষগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার টি ও আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।
ফ্যাট জাতীয় খাবার গুলো হচ্ছেঃ
১.বাদাম
২.দুধ
৩.গরুর মাংশ
৪.সামুদ্রিক মাছ এবং সাধারন ভাবে আমরা
৫.রান্নার তেল থেকে ও ফ্যাট পাচ্ছি।

অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে ফ্যাট কয় ধরনের?
ফ্যাট হল দুই ধরনেরঃ

১.একটি ভালো ফ্যাট অন্যটি
২.খারাপ ফ্যাট

আপনাকে অবশ্যই খারাপ ফ্যাট টি কে বাদ দিতে হবে এবং ভাল ফ্যাট টিকে গ্রহন করতে হবে।

ভালো ফ্যাট জাতীয় খবাবর যদি আপনি গ্রহন করতে পারেন তাহলে শরীরে জমানো সকল খারাপ ফ্যাট শরীর থেকে কেটে চলে যাবে।

ভালো ফ্যাটগুলোর মধ্যে আছে সামুদদ্রিক মাছ, বাদামের তেল, অলিভ অয়েল অথবা রান্নার তেল, ডিম।

এখন বিষয় হলো কোন খাবারটা খেলে আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে আর কোন খাবারটি খেলে আপনার ওজন বেড়ে যাচ্ছে না। আপনি প্রতিদিন সকালে রুটি খাচ্ছেন, দুপুরে ভাত খাচ্ছে, রাতে রুটি অথবা ভাত খাচ্ছেন। অনেকে আছেন এই রুটিনেই চলছেন আবার অনেকে বলছেন যে আমি রাতে ভাত খাচ্ছিনা, দুপুরে ভাত খাচ্ছিনা, তারপরে ও কিন্তু আমার ওজন বেড়ে যাচ্ছে। আসলে এখানে কারনটা কি?

আমি খাবার খাচ্ছিনা আবার কম খাচ্ছি কিন্তু তারপরে ও আমার ওজন টা বেড়ে যাচ্ছে। এটা কিন্তু চিন্তার বিষয়,
আর এই চিনতার বিষয় নিয়ে আমি আজ আলোচনা করবো।
আপনাকে জানতে হবে প্রতিদিন আপনার কত ক্যালরি খাবার শরীরে প্রয়োজন। যদি আপনার ২০০০-২২০০ ক্যালরির দরকার হয় তবে ওজন কমানোর জন্য আপনাকে ক্যালরি কম গ্রহন করতে হবে।
কম করে হলেও আপনাকে ৫০০ ক্যালরি করে কম গ্রহন করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে স্যন্ডউইস, বার্গার, বিস্কুট জাতীয় ফ্যাট খাবার গুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
এখন জানবো শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর উপায়।

চর্বি কমানোঃ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর প্রথমে লেমন হানি ওয়াটার অর্থাৎ হালকা গরম পানির সাথে মধু অথবা লেবুর রস মিশিয়ে শরবত তৈরি করে পান করতে হবে। এ জন্য এক গ্লাস হালকা গরম পানির মধ্যে পরিমান মতো লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে পান করে নিবেন।
লেবুর রসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন -সি রয়েছে যা এক ধরনের প্রোটিন এ্যন্টি অক্সিডেন্টের মতো কাজ করে। যা আমাদের মেটাবলিজম ক্রিয়াকে সচল রাখে। শরীর থেকে সব ধরনের টক্সিন বা বিষ বের করতে সাহায্য করে।
যখন আমরা দিনের শুরুটা গরম পানি পান করার মাধ্যমে শুরু করি তখন আমাদের মেটাবলিজম প্রসেস শুরু হয়। আমাদের শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয়ে যায়। যা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কে কমাতে সাহায্য করে।
মধুর মধ্যে ও অনেক ধরনের এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টি ফাংগাল, এন্টি ইনফ্লামেটরি পদার্থ থাকে যা আমাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বিকে কমিয়ে শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই শরবত টি পার করার পর যদি এর ফলাফল দ্বিগুন পেতে চান তবে এটি পান করার পর ২০-৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন অথবা যে কোনো ব্যয়াম করতে পারেন। এই ড্রিংকস টি পান করার ১.৩০ ঘন্টা পর আমাদের কে দিনের প্রথম খাবার অর্থাৎ সকালের নাস্তা খেতে হবে।

সকালের নাস্তাঃ
১.দুটি সিদ্ধ ডিম,
২. ২ পিস হমের পাউরুটি এবং
৩. ১ কাপ গ্রিন টি।

ডিমকে প্রোটিনের অন্যতম উৎস মানা হয়। এর যৌবিক প্রাপ্যতা প্রায় ৮০ শতাংশ রয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ১০০ গ্রাম ডিম খান তাহলে ৮০-৯০ শতাংশ প্রোটিন আপনার শরীর গ্রহন করবে। এর সাথে সাথে এগুলো ডিমের হলুদ অংশে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে। যা আমাদের শরীরের কিডনি হার্ট ও লিভারের জন্য অনেক বেশি উপকারী। গমের পাউরুটি থেকে শরীর প্রচুর পরিমানে ভালোমানের কার্বোহাইড্রেট গ্রহন করে থাকে।

সকালের নাস্তায় আপনাকে সর্বশেষ গ্রীন টি পান করতে হবে। শরীরের অতিরক্ত ওজন কমাতে গ্রীন টি কে একটি কার্যকরী পানীয় মানা হয়। সকালের নাস্তার পর আপনার আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। এ জন্য আপনাকে খেতে হবেঃ


১. ১ বাটি দই,
২. ১ টি আপেল ও
৩. ১ টি কমলা।

দই থেকে শরীর অনেক ভালোমানের প্রোটিন পটাসিয়াম ও ক্যালসিয়াম গ্রহন করবে।

দুপুরের খাবারঃ
১. ২ পিস গমের রুটি,
২. ১ কাপ ডাল,
৩. ২ পিস সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং
৪. ১ কাপ হ্রীন টি।

সন্ধ্যার নাস্তাঃ
১. ৫ টি কাঠ বাদাম,
২. ৩ টি আখরুট,
৩. ১ টি ডুমুর,
৪. ১ কাপ গ্রীন টি।

রাতের খাবারঃ
১. ১০০ হ্রাম মুরগীর সিনার মাংশ অথবা ১০০ গ্রাম মাছ। ২. ভাপে রান্না করা সবজি।
৩.সালাদ এবং
৪. সামান্য পরিমানে পনির।

এছাড়া নিচে দেওয়া ছবিটি ডায়োর্ট চার্ট ও অনুসরন করতে পারেন।


ভাল লাগলে লাইক, কমেন্টস ও শেয়ার করবেন।

3 thoughts on “অতিরিক্ত ওজন কমানোর সহজ উপায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares